"সব রোগে ওষুধের প্রয়োজন নেই"বইটির সম্পর্কে কিছু কথা: নিয়তি বা অদৃষ্ট সম্পর্কে চীনে প্রচলিত একটি ধারণা নিয়ে দুয়েকটি কথা বলে প্রসঙ্গ কথা শেষ করব। এই ধারণাটি অন্ধবিশ্বাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। বরং মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির সুপ্তশক্তির সাথে এর সম্পর্ক। মানুষ হিসেবে আমাদের কাজ হলো নিয়তির পরিপূর্ণতা প্রদান করা, এমন একটি বোধশক্তির উদ্ভাবন করা, যার মাধ্যমে আমার নিজেদের চিনতে পারি। এই কাজটি করতে পারলে আমরা ভালো থাকব, আমাদের প্রেরণাশক্তি উদ্দীপিত ও উৎসারিত হবে এবং আমরা এমন এক আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হবো যা আগে আমাদের কোনো সময় ছিল না। অন্যদিকে আমাদের চলার পথে ভয়-ভীতি, দুশ্চিন্তা বা আত্মবিশ্বাসের অভাবে যদি কোনো বাধা আসে, আমাদের প্রেরণাশক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হবে বা লোপ পাবে এবং ফলশ্রুতিতে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। সুতরাং রোগ- বিমারিকে জয় করার জন্য আমাদের মনোবল, প্রতিরোধ ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণাশক্তিতে বলীয়ান হতে হবে। তবেই শুধু সুস্থ থাকার যুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারব। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসা লাভ অন্যতম। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিরবিদ্যার কারণে মানুষ অনেক রোগ-ব্যাধিকে জয় করতে পেরেছে ও গড় আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিকালে দেখা যাচ্ছে যে, ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগের কারণে মানবদেহে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেয়া দেওয়ার ফার্মাসিস্ট ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা চিন্তিত। আলোচ্য বইটতে লেখক ওষুধ, ওষুধের প্রয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে সুচিন্তিতভাবে আলোচনা করেছেন, যা যে কোনো স্বাস্থ্যসচেতন পাঠককে এ-বিষয়ে নতুন ধারণা লাভে সহায়ক হবে।
জনস্বাস্থ্য একটি কম্পোজিট ডিসিপ্লিন, অর্থাৎ এটি কোনো একক বিষয় নয়, বরং এর মধ্যে পড়ে সংক্রামক ও অসংক্রামক মহামারিবিদ্যা, জৈব-পরিসংখ্যান, জনপুষ্টি, স্বাস্থ্য-অর্থনীতি, চিকিৎসা-নৃবিজ্ঞান, আচরণগতস্বাস্থ্য ও যোগাযোগবিদ্যা, স্বাস্থ্য-প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যনীতি ইত্যাদি। বাংলাদেশের সামষ্টিক উপলব্ধিতে ‘স্বাস্থ্য’ বলতে মানুষ ‘চিকিৎসা’ই বুঝে থাকে। প্রতিকারমূলক চিকিৎসার ঊর্ধ্বে উঠে স্বাস্থ্যকে জনগণের অধিকার হিসেবে দেখতে পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে স্পষ্টতই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য এমন একটি ডিসিপ্লিন যা স্বাস্থ্য অধিকার অর্জনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলে, বিশেষ পেশাজীবিশ্রেণির বৈষয়িক করালগ্রস্ততার বদলে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের দাবি তোলে। জনস্বাস্থ্যের মূল বক্তব্য হলো, মানুষের দারিদ্র্য, তার সমাজ-বাস্তবতা, তার সংস্কৃতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তার স্বাস্থ্যসন্ধানকে প্রভাবিত করে। ওষুধ, চিকিৎসা, সেবাপ্রদানকারী--এগুলোকে জনগণের স্বাস্থ্য তথা জনস্বাস্থ্যের একমাত্র অথবা প্রধানতম চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করাটা খর্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। কোভিড-১৯ অতিমারি যেন আতশী কাঁচের মতো বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের দুর্দশার চিত্রটি বিবর্ধিত করে দেখিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট সম্পন্ন করা ড. তৌফিক জোয়ার্দার ময়নাতদন্তের মতো কেটেকুটে উদ্ঘাটন করেছেন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের বাস্তবচিত্র।