রহস্য, ভয় ও রোমাঞ্চে ভরা থাকে গোয়েন্দা কাহিনি। আলম সিদ্দিকীর গোয়েন্দা গ্রুপ উপন্যাসও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রেক্ষাপট আমেরিকার নিউইয়র্ক। সেখানে হেইট ক্রাইম বেড়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। বাঙালি ভদ্রলোক জামান খান খুন হন আততায়ীর ছুরিকাঘাতে। প্রায় এক বছর চেষ্টা করেও আমেরিকান পুলিশ ধরতে পারেনি খুনিকে। আততায়ী যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। খুনিকে খুঁজে বের করার প্রতিজ্ঞা নেয় জামান খানের কিশোর ছেলে আয়ান। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলে গোয়েন্দা গ্রুপ। তাদের প্রথম অভিযান চলে নিউইয়র্কের ব্রাদার আইল্যান্ডে। যেখানে গেলে কেউ জীবিত ফিরে আসে না। সেই মৃত্যুপুরীতে গোয়েন্দারা বিশ্বের দশ দেশের সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের মুখোমুখি হয়। কাহিনির শেষে গোয়েন্দা আয়ান খুঁজে পায় তার বাবার হত্যাকারীকে। ঘটনা এটুকুই, কিন্তু গল্পের পরতে পরতে রয়েছে রোমাঞ্চ। আছে ভয়। মৃত্যুর আশঙ্কা। একদিকে রহস্য ভেদ করার জন্য বুদ্ধির দীপ্তি, অন্যদিকে মানবিক আবেগ-সব মিলিয়ে আলম সিদ্দিকীর এই কাহিনি মনোমুগ্ধকর।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের জয় পরাজয় বইটির রচনাগুলিতে চোখ ফেললেই বোঝা যায়, এ দেশের জনসাধারণ নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে মুক্তির জন্যে মরণপণ যুদ্ধ করেছিল, কিন্তু তাদের সেই মুক্তি ঘটেনি। স্বাধীনতার স্বাদ এ দেশের কল্যাণকামী জনগণ পায়নি। কারণ যে রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বলা হয়, সেই দলেরই হাতে এ দেশের মানুষের প্রায় সমস্ত আকাক্সক্ষা দলিত ও ধূলিসাৎ হয়েছে। বইটির পরতে পরতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির শাসনব্যবস্থা এ দেশের জনগণের দুশমনেরই কাণ্ডকারখানা। মানুষকে পঙ্গু করে রাখার সব ধরনের আয়োজন কায়েম করে রাখা হয়েছে এখানে। এ ব্যাপারে অন্ধ থাকলে চলবে না- এটাই এ বইয়ের আসল কথা।
গ্রন্থে ১৯৭১ সালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান নামক কৃত্রিম রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে কেন পাকিস্তান একটি একক রাষ্ট্র ছিল না, ১৯৭০-এর নির্বাচন কোন সংকট সৃষ্টি করে এবং কীভাবে গণহত্যার মাধ্যমে পাকিস্তান তার চরম সংকট সমাধানের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়, দখলকৃত বাংলাদেশে তারা নয় মাস কী কী প্রচেষ্টা নেয়, পরিস্থিতি সামলাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে তার ক্রিয়াকর্ম, যা শেষে ব্যর্থ হয় এসবের আলোচনা। এ ছাড়া আছে কীভাবে পাকিস্তানের কার্যক্রম মিডিয়াতে এসেছে, হামুদুর রহমান কমিশনের মূল বক্তব্য, যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভ,মিকা নিয়ে তদন্ত করে পাকিস্তান সরকার তার রিপোর্ট এবং সেই সময়ের প্রতিবাদী পাকিস্তানিদের সাক্ষাৎকার। শেষে রয়েছে নির্বাচিত প্রামাণিক দলিল ও নয় মাসের ঘটনা।
বাংলাদেশের অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আদিবাসীরাও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার, নারী মুক্তিযোদ্ধার বিপুল সমাবেশ দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এর ইতিহাস অনেকটাই উপেক্ষিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে দেশবাসী তেমন করে জানেনই না। এই অনালোকিত অন্ধকার জগতে আলো ফেলে ইতিহাসের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিয়েছেন গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসমনস্ক করতে এবং আমাদের ইতিহাসের দায় থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক হবে পরিশ্রমী গবেষণায় লেখা বাংলাদেশের আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা' গ্রন্থটি।
একাত্তরের মুক্তিসংগ্রাম বিশ্বব্যাপী সিভিল সোসাইটির নানাবিধ কর্মতৎপরতায় সজীব ছিল। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে বিশ্বজনমত তৈরিতে এই কর্মতৎপরতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্বের নানা প্রান্তের কার্টুনিস্টরা তাদের কার্টুনে ফুটিয়ে তুলে ছিলেন একাত্তরের অস্থির ও উত্তাল সময়, পাশাপাশি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে ও গণহত্যার বিপক্ষে তাদের অবস্থানও। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ এবং অনুপ্রাণিত করতে, জনগণের মনে প্রত্যাশা তৈরিতে ও জনমত গঠনে এই কার্টুনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত কার্টুনগুলো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। খুলনায় প্রতিষ্ঠিত ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরে এসব কার্টুন সংগৃহীত হয়েছে।